
কুষ্টিয়ায় সারের বাজার ‘ন্যায্য মূল্য আর উচ্চ মূল্যের দ্বিধাদ্বন্দ্বে কৃষকেরা আজ দিশেহারা,
ডিলার–সাব ডিলার–খুচরা বিক্রেতার ঠেলাঠেলিতে,,,
এস এম পান্না কুষ্টিয়া:
কুষ্টিয়া জেলা জুড়ে স্যারের বাজারের ডিলার–সাব ডিলার–খুচরা বিক্রেতার ঠেলাঠেলিতে ‘ন্যায্য মূল্য আর উচ্চ মূল্যের দ্বিধাদ্বন্দ্বে কৃষকেরা আজ দিশেহারা। ডিলার, সাব-ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান সমন্বয়হীনতা চরম আকার ধারণ করেছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষকরা। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত দামে সার বিক্রি হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে কৃষকদের অধিক মূল্যে সার কিনতে বাধ্য হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরকার বিভিন্ন সময়ে সারের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষকের দোরগোড়ায় ন্যায্য মূল্যে সার পৌঁছে দিতে নানা উদ্যোগ নিলেও অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে তা বাস্তবে প্রতিফলিত হচ্ছে না। কৃষকদের অভিযোগ—সরকারি দামে সার চাইলে সংকট দেখা দেয়, কিন্তু বেশি দাম দিলে মুহূর্তেই সার পাওয়া যায়। এতে করে মাঠ পর্যায় থেকে শুরু করে সর্বত্র কৃষকদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ডিলারদের দাবি, তারা নির্ধারিত মূল্যেই সার বিক্রি করছেন। তাদের ভাষ্য, “আমরা সরকারের নির্দেশ অনুযায়ীই সার সরবরাহ করি। কিন্তু আমাদের ওপর নানা অভিযোগ তুলে পরিস্থিতি জটিল করা হচ্ছে।
অন্যদিকে সাব-ডিলারদের অভিযোগ, ডিলাররাই সঠিক সময়ে তাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার সরবরাহ করেন না। ফলে তারা বিপাকে পড়ে। সাব-ডিলারদের একাংশের মন্তব্য, “সময়মতো সার না পেলে কৃষকদের কীভাবে দেবো? ডিলাররাই আমাদের সার দেন না।
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, তারা বিভিন্ন উৎস থেকে উচ্চ দামে সার কিনে থাকেন। এজন্য তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। খুচরা ব্যবসায়ীদের ভাষায়, “আমরা যে দামে সার সংগ্রহ করি, সেই অনুযায়ীই বিক্রি করতে হয়। এতে আমাদেরও কোনো লাভ নেই।
কৃষকরা বলছেন, প্রকৃত সমস্যা কেউই স্বীকার করতে চান না। যেই শ্রেণির কাছেই অভিযোগ করা হোক না কেন, সবাই অন্যের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরাই। স্থানীয় কয়েকজন কৃষক বলেন, “বেশি দাম দিলে সারের অভাব নেই। কিন্তু সরকারি দামে সার চাইলে তখনই সংকট শুরু হয়। এতে আমাদের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সারের বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে নিয়মিত মনিটরিং চলছে। যেখানে অনিয়ম পাওয়া যাবে, সেখানে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ অবস্থায় কৃষক, ডিলার, সাব-ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা এবং কঠোর বাজার তদারকিই পারে সারের সংকট ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে
আনতে—এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।