
নিউজ ডেস্ক:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ প্রচারণার আহ্বান জানিয়েছেন কুষ্টিয়ার বিশিষ্ট আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পি.পি) খন্দকার সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ৩১ দফা সংস্কার পরিকল্পনার বিকল্প নেই।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের জনগণ পরিবর্তন চায়। মানুষ শান্তি, উন্নয়ন, আইনের শাসন ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ প্রত্যাশা করছে। বিএনপি’র ৩১ দফা শুধুমাত্র রাজনৈতিক এজেন্ডা নয়; এটি জনগণের মৌলিক অধিকারের রূপরেখা”—এমন মন্তব্য করেন তিনি।
খন্দকার সিরাজুল ইসলাম মনে করেন, বিএনপি’র ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়ন হলে দেশে একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ ও প্রশাসনের নিরপেক্ষ আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি।রাজনৈতিক অঙ্গনে বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা নিয়ে ইতোমধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। কুষ্টিয়ার রাজনীতিতেও এর প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের ধারণা।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে কুষ্টিয়া-৩ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনে নির্বাচনী উত্তাপ চরমে উঠছে। রাজনৈতিক মাঠে সবচেয়ে আলোচনায় বিএনপি’র ধানের শীষ প্রতীককে ঘিরে ব্যাপক কর্মতৎপরতা। প্রতিদিনই চলছে গণসংযোগ, পথসভা ও প্রচারণা।
এ সময়ে নির্বাচন, গণতন্ত্র ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র কাঠামো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন খন্দকার সিরাজুল ইসলাম। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা নিয়ে তিনি বলেন,“বাংলাদেশে যে গণতান্ত্রিক শূন্যতা ও সাংগঠনিক ভঙ্গুরতা সৃষ্টি হয়েছে, ৩১ দফা তারই বাস্তবসম্মত প্রতিকার। বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা, মানবাধিকার, সুশাসন এবং শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন—এগুলো আজ জরুরি।
তিনি মনে করেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার পর জনগণ পরিবর্তনের অপেক্ষায় আছে এবং সেই পরিবর্তনের ভিত্তি রচনা করতে পারে বিএনপি’র ৩১ দফা।বিএনপি প্রার্থী রাগীব রউফের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ প্রচারণা এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরীর পক্ষে নেতাকর্মীরা ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছেন। জনসংযোগে প্রাণচাঞ্চল্য ও দলীয় ঐক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়।
খন্দকার সিরাজুল ইসলাম বলেন,“কে কী বলল তা মুখ্য নয়—আমরা সবাই ধানের শীষকে বিজয়ী দেখতে চাই। দল হিসেবে আমাদের কোনো ভেদাভেদ নেই। ঐক্যই আমাদের শক্তি।
কুষ্টিয়া-৩ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,“এ অঞ্চলের জনগণ শান্তি, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চায়। বিএনপি’র ৩১ দফা সেই প্রত্যাশারই প্রতিফলন।
স্থানীয় জনমত অনুযায়ী, চলমান দরদাম, সভা-সমাবেশ ও গৃহভিত্তিক যোগাযোগে ধানের শীষের পক্ষে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি বিএনপি নেতাদের।
নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক তৎপরতা। বিশ্লেষকদের মতে, কুষ্টিয়া-৩ আসনে লড়াই হবে অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি; শেষ মুহূর্তে সমীকরণ বদলে যেতে পারে।অঞ্চলের মানুষ তাকিয়ে আছে—কার পক্ষে হাওয়া বইবে এবং ধানের শীষ কতটা অগ্রগতি অর্জন করতে পারে—সেদিকেই।