
এস এম পান্না:
(এটি একটি পরিবারের গল্প নয়; এটি আমাদের আশেপাশের অসংখ্য পরিবারেরই প্রতিচ্ছবি)।
এক মর্মস্পর্শী কাহিনি।যেখানে অর্থের অভাব, সম্পর্কের টানাপোড়া, স্বপ্ন ও বাস্তবতার সংঘাত, কাজের চাপে জীবন প্রায় বিপর্যস্ত। কোথাও টাকার, কোথাও সম্পর্কের, কোথাও আবার স্বপ্ন আর বাস্তবতার সাথে মানিয়ে নিতে
সংসারের সব দায়িত্ব একজনের কাঁধে এসে পড়লে তা মানুষের জীবনকে নিঃশব্দে ধ্বংস করে দেয়, যা পরিবারে “বোঝা” তৈরি করে।
বাস্তবতার কঠোর আঘাতে অনেকেরই নিজের স্বপ্ন বা শখগুলো
বিষন্নতায়’পুড়ে’ হয়ে যায় ছাই।
রক্তের সম্পর্ক সময়ের ব্যবধান মানে না—তারই প্রমাণ দিলেন কুষ্টিয়া চড় কুঠিপাড়ার যুবক মোঃ লিখন শেখ। একটি মাত্র মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে দীর্ঘ ৩৮ বছর পর তিনি ফিরে পেলেন তার বংশধর চাচাদের।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার দশক আগে লিখনের বাবা মোঃ ইউনুস মিয়া দারিদ্র্যের কারণে ফরিদপুর থেকে কুষ্টিয়ায় এসে স্থায়ী হন। ছাতা মেরামতের কাজ করে তিনি সংসার চালাতেন।
বলছিলাম কুষ্টিয়া চড়কুটি পাড়ার ছোট্ট একটি কর্মজীবী লিখন এর সজনীদের ফিরে পাওয়ার গল্প ।
লিখনের বাবা ইউসুফ মিয়া
একসময় তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।দেশের বাড়ি ফরিদপুরে
ফেলে আসা বাবা-মাকে মাঝেমধ্যে দেখতে যেতেন এবং সব সময় খোঁজ খবর নিতেন।
আস্তে আস্তে ভাগ্যের চাকা ঘুরতে থাকে ইউসুব মিয়ার তার সংসারে আসে চার ছেলে-মেয়ে সন্তান ।
তিনি জীবিকার তাগিদে কর্ম করে চলেন কিন্তু ছেলে মেয়েকে সেইভাবে লেখাপড়া করাতে পারেননি।টানাপোড়ানোর সংসারে কখনো মা-বাবাকে ভুলে যায় নি ইউসুফ মিয়া। মাঝেমধ্যে ফরিদপুর থেকে নিয়ে আসতেন তাদেরকে দেখভাল করতেন এবং খাদ্যবস্ত যতটুকু সম্ভব পারতেন ততটুকু করে যেতেন তারাও খুশি হতেন এভাবেই দিন কাটতে থাকে তাদের জীবন ।
সন্তানদের বড় করার আগেই ইউনুস মিয়া মারা গেলে পরিবারের সাথে গ্রামের বাড়ির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বড় হওয়ার পর লিখন শেখ ইলেকট্রিক মিস্ত্রি ও ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেও তার মনে সবসময়ই পূর্বপুরুষের সন্ধানের আকুতি ছিল।
সম্প্রতি বড় ভাইয়ের মাধ্যমে একটি মোবাইল নম্বর পেয়ে লিখন ছুটে যান যশোরে। সেখানে গিয়ে অবশেষে খুঁজে পান তার মেজ চাচা মোঃ শাজাহান ও ছোট চাচা মোঃ আবুল কালামকে। ৩৮ বছর পর হারিয়ে যাওয়া শিকড় খুঁজে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন লিখন ও তার পরিবারের সদস্যরা।
লিখন জানান, স্রষ্টার ওপর বিশ্বাস এবং রক্তের টান থাকলে যে কোনো অসাধ্য সাধন সম্ভব। এই মিলন শুধু আইনি সম্পত্তি পাওয়ার পথই সুগম করেনি, বরং দীর্ঘ দিনের অপূর্ণতাকে পূর্ণতায় রূপ দিয়েছে।