
এস এম পান্না কুষ্টিয়া:
সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বদলে যাচ্ছে সমাজ ও পরিবারব্যবস্থা। এই পরিবর্তনের ভিড়ে বাবা-মায়েরা আজও একটিই স্বপ্ন বুকে লালন করেন—সন্তান যেন উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে মানুষের মতো মানুষ হয়ে ওঠে। তাদের সারা জীবনের কষ্ট, পরিশ্রম ও স্বপ্নের সম্বল সন্তানদের জন্যই। ভবিষ্যতে বৃদ্ধাশ্রমের বেড়াজাল থেকে নয়, বরং সন্তানের ভালোবাসা ও দায়িত্বশীলতার হাত ধরে শান্তিময় জীবন চান তারা।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, যুগের পর যুগ ধরে সমাজে এক শ্রেণীর কিশোর–তরুণ ভুল সঙ্গের কারণে অন্ধকার পথে পা বাড়ায়। কিশোর গ্যাং, নেশাজাতীয় আসক্তি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, রাহাজানি, মাস্তানি—এসবের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে তারা নিজের জীবনকে নিজেরাই ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জনের মোহে তারা হাতে তুলে নেয় সহিংসতার যন্ত্র। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যখন বুঝতে পারে যে ভুল পথে হাঁটছে, তখন শুধু চোখের পানি ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। তাদের এই ব্যর্থতা ও ভুল সিদ্ধান্তে পরিবারও চরম কষ্টের মধ্যে পড়ে।
এ অবস্থায় সমাজের প্রতিটি কিশোর–কিশোরী, তরুণ–তরুণীর প্রতি অনুরোধ—ভুল সঙ্গ নয়, এমন সঙ্গ বেছে নাও যা তোমার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করবে।পথনির্দেশ খুঁজে নাও শিক্ষার আলো থেকে। চারিত্রিক বল, মেধাশক্তি ও উচ্চশিক্ষায় নিজেকে গড়ে তুললে একজন সৎ, যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশ-সমাজ-পরিবার সকলের মুখ উজ্জ্বল করা সম্ভব। বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করা যেমন কর্তব্য, তেমনি তাদের বার্ধক্যে সেবা করাও একজন সন্তানের নৈতিক দায়িত্ব।
এস এম পান্না সংবাদকর্মী জানান, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটো ওয়ালে ছবি তুলতে গিয়ে হঠাৎই মনে পড়ে যায় তার অতীতের ভুল সিদ্ধান্তগুলোর কথা। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, “কেন যে বাবা-মায়ের কথা শুনিনি—আজও বুঝি না। এখন মনে হলে চোখ ভিজে যায়। মহান আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করে দিন।”
বর্তমান প্রজন্ম যদি সঠিক পথ বেছে নেয়, তবে একটি শিক্ষিত, সুস্থ, নৈতিক ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব—যেখানে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ হবে, আর সন্তানের ভবিষ্যৎ হবে আলোকিত।