এস এম পান্না:
কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী কুটিপাড়া জামে মসজিদ ঈদগাহ মাঠে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও মর্যাদায় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় মুসল্লিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মাঠে সারিবদ্ধভাবে ঈদের জামাত সম্পন্ন হয়। ২৮ শে মে ২০০২৬ বৃহস্পতিবার সকাল ৭ঃ৩০ টায়
কুটিপাড়া ঈদগাহ মাঠে ঈদুল আযহার প্রথম জামাত ও
৮ টা ১৫ মিনিটে দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
আত্মত্যাগ ও পরম উৎসর্গের মহান আদর্শে মহিমান্বিত মুসলমানদের অন্যতম প্রধান এই ধর্মীয় উৎসবটি আমাদের সমাজে ‘কোরবানির ঈদ’ হিসেবেও ব্যাপকভাবে পরিচিত। হিজরি বর্ষপঞ্জির জিলহজ মাসের ১০ তারিখে এই উৎসব উদযাপিত হয়ে থাকে।
দেশ ও দেশান্তর প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত সবখানেই আজ যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা, গভীর ভাবগাম্ভীর্য ও বিপুল উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হচ্ছে। মহান সৃষ্টিকর্তার অসীম অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি লাভের আশায় ঈদের জামাত শেষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি করবেন।
সুদীর্ঘকাল ধরে এই পবিত্র উৎসব মুসলিম উম্মাহর মাঝে ত্যাগের মহিমান্বিত আদর্শ ছড়িয়ে দিচ্ছে। ঈদের দিন সকালে
কুটিপাড়া ঈদগাহ মাঠে
মুসল্লিদের ঢল নামে । সেখানে দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায়ের জন্য সমবেত হন সবাই।
নামাজ শুরুর আগে খতিব
হাফেজ মাওলানা মাহবুবুর রহমান খুতবার মাধ্যমে উপস্থিত সবার সামনে কোরবানির মূল শিক্ষা ও তাৎপর্য তুলে ধরেনা । ধনী-দরিদ্র কিংবা সামাজিক ভেদাভেদ ভুলে এদিন সব মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায় করবেন এবং একে অপরের সঙ্গে ঈদের কুশল ও শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
ঈদের নামাজ সম্পন্ন হওয়ার পরপরই শুরু হবে মূল আনুষ্ঠানিকতা। সামর্থ্যবান মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিজ নিজ পশু কোরবানি করার প্রক্রিয়া শুরু করবেন। নিজের জান-মাল এবং সবচেয়ে প্রিয় বস্তুকে সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির জন্য আনন্দের সঙ্গে বিলিয়ে দেওয়ার যে মহান শিক্ষা, তা-ই প্রতি বছর ঘুরেফিরে এই ঈদুল আজহার মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে জাগ্রত।
ঐতিহাসিকভাবে পবিত্র ঈদুল আজহার এই বিধান হযরত ইব্রাহিম (আ.) এবং তাঁর প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইলের (আ.) এক অবিস্মরণীয় ঘটনার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে হযরত ইব্রাহিম (আ.) তাঁর কলিজার টুকরো পুত্রকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করতে উদ্যত হয়েছিলেন। মূলত এটি ছিল হযরত ইব্রাহিমের (আ.) প্রতি সৃষ্টিকর্তার এক কঠিন পরীক্ষা। তিনি কোনো দ্বিধা না রেখে পুত্রকে জবাই করার সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে সেই পরীক্ষায় পূর্ণরূপে উত্তীর্ণ হন।
ইসলামি ইতিহাস ও বর্ণনা অনুযায়ী, নিজের চোখ বেঁধে যখন তিনি পুত্রের গলায় ছুরি চালাচ্ছিলেন, তখন কোরবানি সম্পন্ন হওয়ার পর চোখ খুলে দেখতে পান যে, আল্লাহর অলৌকিক কুদরতে ইসমাইলের কোনো ক্ষতি হয়নি। বরং তাঁর পরিবর্তে সেখানে জান্নাত থেকে পাঠানো একটি দুম্বা কোরবানি হয়ে গেছে।
খুতবা শেষে কুটিপাড়া ঈদগাহ কমিটি সভাপতি মোঃ সাইফুল ইসলাম পুলক ঈদগাহের আয় ও ব্যয়ের একটি হিসাব তুলে ধরেন এবং মডেল মসজিদের পশ্চিমে যে খালি জায়গাটি আছে সেখানে একটি মাদ্রাসা স্থাপনার ঘোষণা দেন এবং তিনি বলেন একেক জন একটি করে ইট দিলে এখানে একটি মাদ্রাসা করা সম্ভব হবে বলে সবাইকে জানান।
কুটিপাড়া ঈদগা মাঠ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলায়
কাজ করে গেছেন ঈদগা কমিটির পরিচালনা পর্ষদ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেব টিম।
নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয় এবং মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।