রফিক বিশ্বাস কুষ্টিয়া:
তীব্র দাবদাহ আর অসহ্য গরমে নাভিশ্বাস উঠেছে কুষ্টিয়া শহরবাসীর। বৈশাখের প্রখর সূর্যতাপে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। তবে এই দাবদাহের চেয়েও ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে কুষ্টিয়ার প্রাণ হিসেবে পরিচিত গড়াই নদী।
শুকিয়ে কাঠ গড়াই নদী:
কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া শেখ রাসেল কুষ্টিয়া-হরিপুর সেতু এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এক হাহাকার জাগানিয়া দৃশ্য। একসময়ের প্রমত্তা গড়াই নদীর পানি পুরোপুরি শুকিয়ে এখন ধু-ধু বালুচর। ব্রিজের ঠিক নিচে যেখানে একসময় গভীর পানি ছিল, সেখানে এখন এক ফোঁটা পানিও অবশিষ্ট নেই। মাইলের পর মাইল কেবল উত্তপ্ত বালু আর ধূসর মরুভূমির প্রতিচ্ছবি।
বিপর্যস্ত জনজীবন:
নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় বাতাসের আর্দ্রতা কমে গেছে। চরের উত্তপ্ত বালু থেকে আসা গরম ভাপ শহরের তাপমাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে দুপুরের দিকে শহরের প্রধান সড়কগুলো অনেকটাই জনশূন্য হয়ে পড়ছে। নিম্নআয়ের মানুষ, বিশেষ করে রিকশাচালক ও দিনমজুররা এই গরমে চরম বিপাকে পড়েছেন। প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।
পানির স্তর ও পরিবেশগত প্রভাব:
নদী পানিশূন্য হয়ে পড়ায় কুষ্টিয়া শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে গেছে। এতে অনেক টিউবওয়েলে পানি উঠছে না, যার ফলে খাওয়ার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া নদীর ইকোসিস্টেম ধ্বংস হওয়ায় পরিবেশের ভারসাম্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
নাগরিক হাহাকার:
থানাপাড়া এলাকার সাধারণ মানুষ বলছেন, "আগে বিকেলে সেতুর নিচে একটু শীতল বাতাসের জন্য আসতাম। এখন সেখানে গেলে গরম বালুর ভাপে শরীর পুড়ে যায়। গড়াই নদীর এমন মরণদশা আমাদের জন্য চরম অশনি সংকেত।"
দ্রুত বৃষ্টি না হলে এবং নদী শাসনের মাধ্যমে পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা না গেলে কুষ্টিয়াবাসীর জন্য এই গ্রীষ্ম ভয়াবহ ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ থেকে বাঁচতে এখন এক পশলা বৃষ্টির অপেক্ষায় চাতক পাখির মতো চেয়ে আছে জেলাবাসী।