কেরানীগঞ্জ সংবাদ দাতাঃ
কেরানীগঞ্জে মা ও মেয়ের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় বেরিয়ে এলো ভয়ংকর ও চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। পুলিশ বলছে, পুরো হত্যাকাণ্ডটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি এম সাইফুল আলম জানান, নিহত রোকেয়ার মেয়ের গৃহশিক্ষিকা মীমের সঙ্গে রোকেয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে পাশাপাশি বাসা হওয়ার সুবাদে। সেই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে মীম তিনটি এনজিও থেকে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেয়, যার গ্যারান্টার ছিলেন রোকেয়া। পরে ঋণের টাকা পরিশোধে চাপ দিলে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। এখান থেকেই শুরু হয় ভয়ংকর পরিকল্পনা।
দৈনিক কালবেলার প্রতিবেদনে পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে গৃহশিক্ষিকা মীম ও তার ছোট বোন নুর জাহান মিলে রোকেয়ার মেয়ে ফাতেমাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর মীম ফোন করে রোকেয়াকে জানায়, তার মেয়ে অসুস্থ। মেয়েকে বাসায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে রোকেয়াকে ডেকে আনা হয় শিক্ষিকার বাসায়। সেখানে প্রবেশের পর দুই বোন মিলে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে রোকেয়াকেও হত্যা করা হয়।
হত্যার পর রোকেয়ার মরদেহ খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, সেই খাটের ওপরেই রাত কাটায় গৃহশিক্ষিকা মীম।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ফাতেমা শিক্ষিকার বাসায় ঢুকছে। পরে ফাতেমার পোশাক পরে বাসা থেকে বের হয় আরেকজন, যাতে মনে হয় ফাতেমাই বের হয়েছে। বাস্তবে ওই ব্যক্তি ছিল মীমের ছোট বোন নুর জাহান।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গৃহশিক্ষিকা মীম ও তার বোন নুর জাহান হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য, এ ঘটনায় গত ২৭ ডিসেম্বর একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল।
একটি ঋণ, ভাঙা বিশ্বাস আর পরিকল্পিত নিষ্ঠুরতা—সব মিলিয়ে এই হত্যাকাণ্ড সমাজকে নতুন করে নাড়া দিয়ে বুঝিয়ে দিলো কাউকে সহায়তা করার আগে ভেবে চিন্তে করা উচিত।