হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় দায়িত্বরত ওসির সামনে পুলিশ সদস্যকে পুড়িয়ে হত্যার লোমহর্ষক স্বীকারোক্তি দেওয়া সেই মাহদী হাসানকে আটক করা হয়েছে। আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) তাকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়। ৫ আগস্টের সহিংসতায় সরাসরি জড়িত থাকার কথা প্রকাশ্যে দম্ভোক্তি করার পর দেশজুড়ে ওঠা তীব্র সমালোচনার মুখে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
যে ভিডিওতে তোলপাড়:
ঘটনার সূত্রপাত হয় মাহদী হাসানের নিজের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে শেয়ার করা একটি ভিডিওর মাধ্যমে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, শায়েস্তাগঞ্জ থানায় আটক এক কর্মীকে ছাড়িয়ে নিতে গিয়ে মাহদী হাসান ওসির সাথে চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করছেন। এক পর্যায়ে তিনি চিৎকার করে বলেন:
"আমরা বানিয়াচং থানা পুড়িয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম। আপনি এসেছেন ঠিক আছে, কিন্তু কোন সাহসে আমাদের লোককে আটক করলেন?"
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট হবিগঞ্জের বানিয়াচং থানায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে এবং এসআই সন্তোষ দাশ চৌধুরীকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করে তার মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। মাহদীর এই বক্তব্য সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সরাসরি ‘স্বীকারোক্তি’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভাইরাল ভিডিও ও জনরোষ:
মাহদী নিজেই তার দম্ভোক্তির ভিডিওটি ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। জুলাই বিপ্লবের ‘পরিচয়’ ব্যবহার করে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার এবং পুলিশকে হুমকির বিষয়টি অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাহদীর বিচারের দাবিতে সরব হন নেটিজেনরা।
পুলিশের পদক্ষেপ:
ভাইরাল ভিডিওটি নজরে আসার পর এবং পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে আজ মাহদীকে আটক করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। গত ৫ আগস্টের সহিংসতা এবং এসআই সন্তোষ হত্যার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
জুলাই বিপ্লবের চেতনা নিয়ে প্রশ্ন:
আন্দোলনের নাম ভাঙিয়ে যারা এ ধরনের অরাজকতা ও হত্যাকাণ্ডের সাথে যুক্ত ছিল, তাদের চিহ্নিত করার দাবি উঠেছে সাধারণ ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে। মাহদী হাসানের এই ঘটনাটি সেই দাবির পালে নতুন করে হাওয়া দিয়েছে।