আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ২০২৫ উদযাপন,
“আসুন সকল ডিজিটাল সহিংসতা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ হই”
এস এম পান্না :
কুষ্টিয়ায় আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা
ও ১২ জন নারীকে, নারী ও কন্যা শিশুদের প্রতি সহিষ্ণতা প্রতিরোধে এবং নিরাপদ সমাজ গঠনে উল্লেখ্যযোগ্য আবদানের স্বীকৃতি সম্মাননা প্রদান করা হয়।
২৫শে নভেম্বর থেকে ১০ই ডিসেম্বর পর্যন্ত এ প্রতিরোধ পক্ষ উদযাপন করা হয়।
এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল- নারী ও কন্যার প্রতি সহিষ্ণুতা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ হই, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করি।
এই উপলক্ষে ১৭ই ডিসেম্বর বুধবার
বিকাল তিনটার সময় সেতু’র আয়োজনে এবং বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি) এর সহায়তায় সেতু সম্মেলন কক্ষে, আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ২০২৫ উদযাপন, আলোচনা সভা
ও ১২ জন নারীকে, নারী ও কন্যা সহ শিশুদের প্রতি সহিষ্ণতা প্রতিরোধে এবং নিরাপদ সমাজ গঠনে উল্লেখ্যযোগ্য আবদানের স্বীকৃতি সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সেতু’র ম্যানেজার আইসিটি হারুন অর রশিদের সংঞ্চালনায়, সভাপতিত্ব করেন সেতু’র নির্বাহী পরিচালক ড. মোহা. আব্দুল কাদের। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, কুষ্টিয়ার উপ-পরিচালক নূরে সফুরা ফেরদৌস।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সেতু’র নির্বাহী পরিচালক ড. মোহা. আব্দুল কাদের তি বলেন সকলের সহযোগিতায় নারীর প্রতি ডিজিটাল সহিংসতা বন্ধ ও নিরাপদ ডিজিটাল প্লাটফর্ম নিশ্চিত করতে নীতিমালা বাস্তবায়নে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। নারীদেরও প্রযুক্তি ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি সহিংসতা প্রতিরোধে সাংবাদিকদের আরও সজাগ এবং সক্রিয় হবার আহবান জানান। তিনি আরো বলেন, সমাজে নারীদের সমান ভাবে দেখতে হবে, সমান স্বীকৃতি দিতে হবে তাহলে সমাজে নারী-পুরুষের বৈষম্য দুর হবে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে নূরে সফুরা ফেরদৌস বলেন, নারীর প্রতি ডিজিটাল সহিংসতা রোধে প্রথমে নিজের ঘর থেকে কাজ শুরু করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি পর্যায়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা সম্প্রসারণ করতে হবে। ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গুলোকে দায়বদ্ধতার আওতায় আনতে হবে। সুশিল সমাজ, যুব সমাজ ও গণ মাধ্যমকে শক্তিশালী ও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে সেতুর আইসিটি অফিসার সানজিদা খাতুন উল্লেখ করেন, প্রযুক্তি নারীর ক্ষমতায়নের শক্তিশালী হাতিয়ার হওয়া সত্তে¡ও, একই প্রযুক্তি এখন অনেক ক্ষেত্রে হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নির্যাতনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।
প্রযুক্তির সহায়তায় জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা কেবল প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়, এটি একটি মানবাধিকার ও ন্যায় বিচারের ইস্যু। নারীরা যখন অনলাইন হয়রানির শিকার হন তখন তারা শুধু মানসিকভাবে নয় আর্থিক ও সামাজিক দিক থেকেও ক্ষতিগ্রস্থ হন, মানসিকভাবে হেনস্থার শিকার হলে রাগ, বিষন্নতা, আত্ববিশ্বাস হ্রাস ও দুঃশ্চিন্তাগ্রস্থ থাকেন। ফলে তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্থ হয়, সম্মানহানি ঘটে ও সামাজিকভাবে হেয় হয়ে থাকেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা কর্মক্ষেত্রে স্বাভাবিক হতে পারেন না। অনেক ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হন।
অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়া জেলা সদর উপজেলার আলামপুর, আইলচারা, বটতৈল, ঝাউদিয়া, হরিনারায়ণপুর ও হাটশ্ হরিপুর ইউনিয়নের প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে দুই জন করে মোট ১২ জন নারীকে নারী ও কন্যা শিশুদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে এবং নিরাপদ সমাজ গঠনে উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতি সম্মাননা প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে সম্মাননাপ্রাপ্ত নারী নেত্রী, সমাজ কর্মী, সাংবাদিক, সরকারী কর্মকর্তা, যুবরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সেতু’র প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান।